Thursday, May 21, 2020

কুরআন-হাদীসের আলোকে তওবা: পরিচয়, প্রকরণ, গুরুত্ব ও ফজিলত

কুরআন-হাদীসের আলোকে তওবা: পরিচয়, প্রকরণ, গুরুত্ব ও ফজিলত
ধরার বুকে প্রতটিি মানুষই ইচ্ছায় বা অনচ্ছিায়, ভুল/পাপেরর সাথে সম্পৃক্ত। ভুল করা বা পাপ করা মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি। তাই আমাদরেও ভুল-ত্রুটি হওয়াটাই স্বাভাবকি। যা আমাদেরকে পাপ-পঙ্কিলতায় নিমজ্জিত করে ফলে। কেননা কোন মানুষই ভুলের উর্ধ্বে নয়। ভুল-ত্রুটি সংগঠিত হতেই পার। তবে উত্তম ঐ ব্যক্তিই, যে ভুল করার পর তওবা করে। মনে রাখতে হবে পাপ থেকে বেঁচে থাকা হলো মুমিনের পরচিয়। আর কৃতপাপ থেকে তওবা করা হলাে মুমিনের অনন্য বশৈষ্ট্যি।
মহান আল্লাহ তা‘আলার কাছে তওবা খুবই প্রিয়। তিনি তওবাকে মুমিনের সফলতা ও নাজাতরে চাবিকাঠি বলে উল্লেখ করেছেন। শুধু তাই নয়, কুরআনে তওবা করার নির্দেশ দিয়ে ইরশাদ করনে-
‘হে মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর নিকট তওবা কর। যাতে তোমরা সফলতা লাভ করতে পার।’ {আন নূর: ৩১}
মহান আল্লাহ অন্যত্র ইরশাদ করেন-
‘তোমরা আল্লাহর নিকট আন্তরকিভাবে তওবা কর।’{আত-তাহরীম: ৮}
তওবাকারী ব্যক্তির প্রতি আল্লাহ অত্যন্ত আনন্দিত হন। তাকে অনেক ভালোবাসেন। বান্দা যখন তার কৃতপাপের জন্য অনুতপ্ত হয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চায় তখন আল্লাহ অতি আনন্দিত ও খুশি হন। যেমন হাদীসে ইরশাদ হয়ছে-
হযরত আনাস ইবনে মালেক রা: হতে বর্ণিত, তিনি বলেন আল্লাহর রাসূল বলেছেন
‘কোন ব্যক্তি বিজন মরু প্রান্তরে উট হারিয়ে যাওয়ার পর পুনরায় তা ফেরৎ পেলে যে পরিমাণ আনন্দে উদ্বেলিত হয়, মহান আল্লাহ তাঁর বান্দার তওবাতে এর চেয়েও বেশী আনন্দিত হন।’ {সহীহ বুখারী,হাদীস নং-৫৮৩৪}
অন্য এক হাদীসে এসছে-
আনাস ইবনে মালকে রা: হতে বর্ণিত, তিনি বলেন রাসূল সা: বলেছেন: বান্দার তওবাতে আল্লাহ তোমাদের ঐ ব্যক্তির থেকে অধিক আনন্দিত হন, যে বিজন মরু প্রান্তরে তার উট হারিয়ে ফেলল। যাতে তার খাদ্য-পানীয় ছিল। উট হারানাের কারণে হতাশ হয়ে গাছের ছায়ায় এসে শুয়ে পড়লো। এমন পরিস্থিতিতে সে হঠাৎ দেখতে পেল তার উট তার পাশেই দাঁড়িয়ে আছ। তখন সে উটের লাগাম ধরে আনন্দে উদ্বেলিত হয়ে বলতে লাগলো,“হে আল্লাহ, তুমি আমার বান্দা আমি তোমার প্রভূ! অতি আনন্দরে কারণে সে এভাবে ভুল কথা বলে ফেলল।" {সহীহ মুসলিম, হাদীস নং-৪৯৩৪}
উপরোক্ত হাদীসদ্বয় দ্বারা তওবার গুরুত্ব ও উপকারিতা খুব সহজেই বুঝা যায়।
তওবার পরিচয়:
আভিধানিক অর্থ: توبة (তওবাহ) শব্দটি (তওবুন) توب মূলধাতু হতে নির্গত। এর অভিধানগত র্অথ হল: অনুশোচনা, অনুতাপ, প্রত্যার্বতন, ক্ষমা, গোনাহ ছেড়ে আল্লাহর দিকে মনোনিবেশ করা, আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া ইত্যাদি।
পারিভাষিক অর্থ:
® মাজাল্লাতুল বুহুস আল ইসলামিয়্যাহতে এসেছে-
‘তওবা এমন লজ্জিত হওয়ার নাম যা দৃঢ় সংকল্প ও অভিপ্রায়ের উত্তরাধিকারী হয়। আর এই লজ্জিত হওয়াটা এমন জ্ঞানের উত্তরাধিকারী হয় যাতে পাপকাজ মানুষ ও তার প্রিয় ব্যক্তির মাঝে প্রতিবন্ধক হয়।’
® কেউ কেউ বলেন: ‘তওবা হলো হৃদয় থেকে মহান আল্লাহর দিকে বারংবার সর্ম্পক তৈরী করে প্রত্যার্বতন করা। অত:পর প্রতিপালক আল্লাহ তা‘আলার সমস্ত হকের উপর প্রতিষ্ঠা লাভ করা।’
® ইসলামী বিশেষজ্ঞরা বলেন: ‘তওবা হল আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্যতা থেকে তাঁর আনুগত্যেরর দিকে প্রত্যার্বতন করা।’
সুতরাং তওবা বলতে বুঝায় আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্যতা থেকে অনুতপ্তের সাথে প্রত্যার্বতন করে, কৃতর্কমের উপর লজ্জিত হয়ে, ভবিষ্যৎ জীবনে না করার দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে প্রভূর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা।
আল-কুরআন ও হাদীসে তওবার র্বণনা: আল-কুরআন, হাদীস ও উম্মতের ঐক্যমতে প্রমাণিত হয় যে কৃতপাপ থেকে তওবা করা অপরিহার্য।
কুরআনের বহু স্থানে এ ব্যাপারে আলোচনা এসেছে তন্মধ্য হতে নিম্নে আমরা কয়েকটি আয়াত র্বণনা করবো। যেমন: আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন-
‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা সবাই আল্লাহ তা‘আলার নিকট তওবা কর, যাতে তোমরা সফলতা লাভ করতে পারো।’ {আন নূর:৩১}
অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে- ‘আর তোমরা নিজেদের প্রতিপালকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা কর, অত:পর তওবা কর।’ {হুদ: ৩}
অন্যত্র ইরশাদ হয়েছে – ‘আমি (নূহ আ:) বললাম, তোমাদের প্রতিপালকের নিকট ক্ষমা প্রার্থনা কর।’ {নূহ: ১০}
আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র ইরশাদ করনে – ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা কর, বিশুদ্ধ তওবা।’ {আত-তাহরীম: ৮}
উপরোল্লেখিত আয়াতাবলীর মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে, মহান আল্লাহ মুমিনদেরকে তওবা করার নির্দেশ দিয়েছেন।
 তওবার পূর্বে ইস্তিগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করা।
 আল্লাহ তা‘আলা বিশুদ্ধ তওবার নির্দেশ দিয়েছেন।
 তওবা ও ইস্তিগফার দুনিয়ার জীবনে প্রশান্তি লাভের মাধ্যম।
 উভয় জাহানে সফলতা লাভের শ্রেষ্ঠ উপায়।
মহানবী (সা:) এর অসংখ্য হাদীসে তওবার বিষয় গুরুত্বের সাথে বর্ণনা করা হয়েছে। তন্মধ্য হতে নিম্নে কয়েকটি হাদীস বর্ণনা করা হলো-
হাদীস শরীফে ইরশাদ হয়েছে-
আবূ হুরাইরা রা: হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূল সা: কে বলতে শুনেছি: আল্লাহর শপথ! আমি দিনের মধ্যে ৭০ বারের ও বেশী আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা না করি ও তওবা করি।{বুখারী শরীফ, হাদীস নং-৬৩০৭}
অন্য এক হাদীসে ইরশাদ হয়েছে- ‘আগার ইবনে ইয়াসার আল-মুযানী রা: হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসূল সা: বলেছেন, হে মানব সকল! তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা কর। আমি প্রতিদিন ১০০ বার (আল্লাহর কাছ) তওবা করি।’ {ইবনে মাজাহ, হাদীস নং-৩৮১৬}
মহানবী সা: অন্যত্র ইরশাদ করেছেন- ‘আনাস ইবনে মালেক রা: হতে বর্ণিত, নিশ্চয়ই নবী সা: বলেছেন, প্রত্যেক আদম সন্তান ভুল করে আর উত্তম ভুলকারী হলো যারা তওবা করে।'{তিরমিযি শরীফ, হাদীস নং-২৪৯৯}
উপরোল্লেখিত হাদীসসমূহ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে
 মহানবী সা: নিষ্পাপ হওয়া স্বত্ত্বেও তওবা করতেন, উম্মতকে উহার গুরুত্ব বুঝানোর জন্য।
 গোনাহ না থাকলেও তওবা করা যায়।
 ইস্তিগফার ও তওবা ইবাদতের অন্তর্ভুক্ত ।
 নবী সা: তাঁর উম্মতকে তওবা করার নির্দেশ দিয়েছেন।
 তওবাকারী বান্দা আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়।
তওবার প্রকারভদে: তওবা তিন প্রকার। যথা:
১)التوبة الصحيحة (আত্-তাওবাতুস সহীহাহ) আর তা হলো, বান্দা গোনাহকে স্বীকার করা, অত:পর তা হতে সত্যতার সাথে (তওবা করে)ফিরে আসা।
২) التوبة الأصح (আত্-তাওবাতুল আসাহাহ্) আর তা হলো তাওবাতুন নাসুহা ও তার আলামতসমূহ। বান্দা গুনাহকে অপছন্দ করা ও খারাপ মনে করা, যাতে হৃদয়ে পাপের উদ্রেগ না হয়। আর তার হৃদয়কে পাপসমূহ হতে পুত-পবিত্র রাখা।
৩) التوبة الفاسدة (আত্-তাওবাতুল ফাসিদা) আর তা হলো, হৃদয়ে পাপের স্বাদ ধরে রেখে কেবল মুখে মুখে তওবা করা।
যার হক নষ্ট করা হয়ছেে তার হকের বদলা দিয়ে বা তার কাছ থেকে ক্ষমা প্রার্থনা করা।
তওবায়ে নাসুহা তিনটি বিষয়ে সম্পর্কযুক্ত-
ক. সমস্ত অন্যায় অপরাধ হতে তওবা করা।
খ. তওবার উপর দৃঢ় প্রতিজ্ঞাবদ্ধ থাকা।
গ. তওবা একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর জন্য হওয়া।
তওবার ফযিলত ও মাহাত্ম্য: মানুষ মাত্রই পাপ হওয়াটা স্বাভাবিক। সে পাপ মোচনের অন্যতম উপায় হল তওবা। কারণ এই তওবার মাধ্যমেই মহান আল্লাহ তা‘আলার নৈকট্য লাভ করা যায়। তাই বলা যায়, তওবার ফযিলত অপরিসীম, উহার ফায়েদাসমূহ অনেক, বরকতসমূহ বিভিন্ন প্রকার। নিম্নে কতিপয় ফযিলত বর্ণনা করা হল।
১.তওবা হল উভয় জাহানে সফলতা ও শ্রেষ্ঠত্ব লাভের মাধ্যম।
আল্লাহ বলেন- ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে তওবা কর, যাতে সফলকাম হতে পার।’ { আন- নূর: ৩১}
২. তওবা হল পাপ মোচনের মাধ্যম। কেননা বান্দা যখন প্রকৃত তওবা করে তখন আল্লাহ তা‘আলা তার যাবতীয় পাপরাশি মোচন করে দেন।
আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন- ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা কর। (তাহলে) হয়তো তোমাদের প্রভু তোমাদের পাপসমূহ মোচন করবেন এবং তোমাদেরকে জান্নাতে স্থান দিবেন, যার নিচ দিয়ে নদী প্রবাহিত।’ { আত-তাহরীম:৮}
৩.তওবায় পাপ নেকীতে পরিণত হয়। বান্দা যখন উত্তমভাবে তওবা করে, তখন আল্লাহ তা‘আলা তার পাপকে নেকীর মাধ্যমে পরিবর্তন করে দেন।
আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন- ‘তারা ব্যতীত যারা তওবা করে, বিশ্বাস রাখে এবং সৎ কাজ করে; আল্লাহ তাদের পাপসমূহ পূণ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দিবেন। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ { আল-ফুরকান: ৭০}
৪.তওবা হল ইত্তম উপঢৌকন, বৃষ্টি বর্ষণ, সন্তান-সন্ততি ও অর্থ সম্পদের মাধ্যমে সাহায্য ও শক্তি বৃদ্ধিও অন্যতম মাধ্যম।
আল্লাহ বলেন- ‘আর হে আমার সম্প্রদায়! তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে ক্ষমা চাও, তারপর তাঁর দিকে ফিরে আসো; তিনি আসমান থেকে তোমাদের জন্য বারিধারা বর্ষণ করবেন এবং তোমাদের শক্তি সাথে আরো শক্তি বাড়িয়ে দিবেন।‘ { হুদ: ৫২}
অন্যত্র নূহ আ.এর জবানে আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন- ‘বলেছি: তোমরা তোমাদের প্রভুর কাছে ক্ষমা চাও, নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল। তাহলে তিনি তোমাদের জন্য আকাশ হতে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষণ করবেন; ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি দ্বারা তোমাদের শক্তি বৃদ্ধি করবেন এবং তোমাদের জন্য বাগ-বাগিচা ও নদ-নদী বানিয়ে দিবেন।, { নূহ:১০-১২}
৫. আল্লাহ তা‘আলা তওবা ও তওবাকারীকে অধিক ভালবাসেন। ইবাদতসমূহের মধ্যে তওবা হল আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয়। তাই তিনি তওবা ও তওবাকারীকে অধিক পছন্দ করেন।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন- ‘নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবাকারীদের ভালোবাসেন, আর যারা পবিত্র থাকে তিনি তাদেরকেও ভালোবাসেন।’ { আল-বাক্বারাহ: ২২২}
৬.তওবা হল ক্ষমা ও রহমত প্রাপ্তির মাধ্যম। তওবার মাধ্যমেই ক্ষমা ও রহমত পাওয়া যায়।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন- ‘তবে যারা খারাপ কাজ করার পর তওবা করে ও ঈমানদার হয়ে যায় তাদের ক্ষেত্রে (পরবর্তীতে) তোমার প্রভু অবশ্যই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ {‘আরাফ: ১৫৩}
৭. বান্দার আমল কবুল ও ক্ষমার অন্যতম মাধ্যম।
আল্লাহ বলেন- ‘তিনিই তাঁর বান্দাদের তওবা কবুল করেন এবং তাদের পাপসমূহ ক্ষমা করেন।’ { আশ-শুরা: ২৫}
৮. সমস্ত কল্যাণের মাধ্যম হল তওবা।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন- ‘সুতরাং তারা যদি তওবা করে তাহলে তাদের জন্যই ভাল হবে।’ { আত-তওবা:৭৪}
৯.তওবা হল ঈমান ও উত্তম প্রতিদানের মাধ্যম।
আল্লাহ বলেন- ‘সেই সব লোক ব্যতীত যারা তওবা করে, নিজেদের সংশোধন করে, আল্লাহকে (আল্লাহর বিধানকে) আকড়ে ধরে এবং শুধু আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিজেদের ধর্মে একনিষ্ট থাকে। এমন লোকেরা মুমিনদের সাথে থাকবে। আর আগামীতে আল্লাহ মুমিনদেরকে এক মহা প্রতিদান দিবেন।’ { আন-নিসা: ১৪৬}
১০.জাহান্নাম হতে মুক্তি ও জান্নাত প্রাপ্তির মাধ্যম।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন- ‘তবে যারা তওবা করেছে, সত্যকে বিশ্বাস করেছে এবং সৎকাজ করেছে তারা এর ব্যতিক্রম। এমন লোকেরা জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের প্রতি এতটুকু অবিচার করা হবে না।’ { মারইয়াম:৬০}
১১.তওবা হল আল্লাহর ইচ্ছানুযায়ী আনুগত্য করা।
আল্লাহ বলেন- ‘আল্লাহ তোমাদেরকে ক্ষমা করে দিতে চান।’ { আন-নিসা:২৭}
তওবা কখন করা চাই: গোনাহের এলাজ হল তওবা। নিজেকে ইছলাহ বা সংশোধন করতে হলে তওবার বিকল্প নাই। আমরা পাপ করতে করতে যখন মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ি তখন মনে করি তওবার সময় হয়েছে। যা সম্পূর্ণ নিছক ধারনা মাত্র। পাপপ হয়ে যাওয়ার সাথে সাথেই তওবা করা হল শ্রেষ্ঠ সময়। যাতে মৃত্যুশয্যায় শায়িত হওয়া পর্যন্ত বিলম্বিত না হয়। মনে রাখতে হবে, মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে তওবা করলে তা কবুল হয়না। তাই আমাদের উচিত মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসার পূর্বেই তওবা করা । নতুবা সে তওবা বিফলে যাবে।
মহান আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন- ‘এমন লোকদের তওবার সুযোগ নাই যারা (জীবনভর) খারাপ কাজ করতে থাকে; অবশেষে যখন তাদের করো মৃত্যু উপস্থিত হয় তখন বলে, ”আমি এখন তওবা করলাম;” তাদেরও তওবার সুযোগ নেই যারা কাফের অবস্থায় মারা যায়। এসব লোকদের জন্য আমি বেদনাদায়ক শাস্তি প্রস্তুত করে রেখেছি।’ { আন-নিসা:১৮}
মনে রাখতে হবে পাপ হওয়ার সাথে সাথেই তওবা করা ওয়াজিব। কারণ পাপকে ঈমানের ক্ষতিকর ভাবা ঈমানেরই অংশ। তাই আমাদের উচিত যথা সময়ে তওবা করা।
সকলের জন্যই তওবা জরূরী: উভয় জাহানে কল্যাণ ও সফলতা লাভ করতে হলে সবার জন্যই তওবা জরূরী। আল্লাহ তা‘আলা তওবাকে সফলতার চাবিকাঠি বলে উলেখ করেছেন। সবাইকেই তওবার নির্দেশ দিয়েছেন। আসলে সুস্থ্য বিবেক সম্পন্ন প্রতিটি মানুষই তওবার গুরুত্ব বুঝে। কোনো বালেগ ব্যক্তি যদি মূর্খতা ও কুফুরীর মধ্যে থাকে তবে তার জন্য ওয়াজিব হল তা হতে তওবা কারা। জ্ঞান সম্পন্ন প্রতিটি মানুষের উপরই তওবা করা অপরিহার্য। এমন কোনো মানুষ নেই যার তওবা করার দরকার নেই। স্বয়ং মহানবী সা. যেখানে তওবা করেছেন ও তাঁর উম্মতকে উহার প্রতি আহবান করেছেন এতেই উহার গুরুত্ব অনুমেয় হয়। আল্লাহ তা‘আলার দরবারে নবী সা. এর ক্ষমা প্রার্থনার কারণেই আল্লাহ তাঁকে মর্যাদার উচ্চাসনে অধিষ্ঠিত করেছেন।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন- ‘যাতে আল্লাহ আপনার অতীত ও ভবিষ্যতের যাবতীয় ত্রুটিসমূহ মার্জনা করে দেন।’ { আল-ফাতাহ: ২}
তওবার যথার্থ দাবী হল অতীত পাপসমূহের ক্ষতিপূরণ করা ও ভবিষ্যতে নিন্দার সাথে তা পরিত্যাগ করা। আর বেশী বেশী নেক আমল করা।
নবী সা.ইরশাদ করেছেন- ‘বদ আমলের পরই নেক আমল কর। নেক আমল বদ আমলকে মিটিয়ে দিবে।’ { মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং-২২০৩৯}
তওবায় গোনাহ মাফ : তওবায় যাবতীয় পাপরাশি মাফ হয়ে যায়। কেউ মনে প্রাণে তওবা করলে সে নিষ্পাপ হয়ে যায়।
মহানবী সা. ইরশাদ করেন- ‘আব্দুল্লাহ ইব মাসউদ রাযি. হতে বর্ণিত, নিশ্চয়ই রাসূল সা. ইরশাদ করেন, পাপ হতে তওবাকারী ব্যক্তি হল ঐ ব্যক্তির ন্যায় যার কোন পাপ নেই।’ { ইবন মাজাহ,হাদীস নং-৪২৫০}
আর্থাৎ পাপ হতে তওবাকারী ব্যক্তি নিষ্পাপ শিশুর মত। তার জীবনের পাপরাশি বলতে কিছুই থাকেনা । তওবার বহু ঘটনা হাদীসে বর্ণিত হয়েছে। তন্মধ্য হতে একটি হল-
‘আব্দুল্লাহ ইবন বুরাইদা রাযি. হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি নবী সা, এর নিকট বসা ছিলাম। বনী গামেদের জনৈক মহিলা তাঁর নিকট আসলেন। অত:পর বললেন হে আল্লাহর রাসূল! সা. আমি যিনা করে ফেলেছি, আমি চাই আপনি আমাকে পবিত্র করে দেন। নবী সা. তাকে বললেন, তুমি ফিরে যাও । পরের দিন তাঁর কাছে যিনার স্বীকারোক্তি দিলেন। অত:পর বললেন, হে আল্লাহর রাসূল সা. আপনি আমাকে পবিত্র করুন। সম্ভবত আপনি আমাকে মায়ায ইবন মালেকের মত ফিরিয়ে দিতে চাচ্ছেন। আল্লাহর শপথ! আমি গর্ভবতী। নবী সা. তাকে বললেন, সন্তান প্রসব করা পর্যন্ত সময়ের অবকাশ নিয়ে ফিরে যাও। অত:পর সন্তান ভূমিষ্ট করে, কাপড়ে পেচিয়ে নবী সা.এর কাছে নিয়ে এসে বললেন, হে আল্লাহর রাসূল! সা.আমি একে জন্ম দিয়েছি। নবী সা. বললেন, তুমি চলে যাও । আর শিশুকে দুধ পান করাও। অত:পর শিশুকে যখন দুধ পান করা ছাড়ানো হলো তখন তাকে নিয়ে আসলেন। শিশুটির হাতে রুটির টুকরো ছিল । মহিলা বললেন, হে আল্লাহর নবী সা. আমি ওকে দুধ পান ছাড়িয়ে দিয়েছি। নবী সা. শিশুকে কারো জিম্মায় নেওয়ার নির্দেশ দিলেন। অত:পর জনৈক ব্যক্তি শিশুটির দায়িত্বভার গ্রহণ করলেন। অত:পর মহিলার জন্য একটি গর্ত খনন করা হল। তাতে তাকে বুক পর্যন্ত পুতে দেওয়া হল। এরপর নবী সা. লোকদের নির্দেশ দিলেন তাকে পাথর নিক্ষেপ করতে। খালিদ ইবন ওয়ালিদ রাযি. একটি পাথর নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে এসে মহিলার মাথায় নিক্ষেপ করলেন। তখন খালিদ ইবন ওয়ালিদ রাযি.এর গন্ডদেশে রক্ত ছিটকে আসলো। তিনি তাকে গালি দিলেন। নবী সা. তার গালি শুনতে পেয়ে বললেন, থামো হে খালিদ! তুমি তাকে গালি দিওনা। ঐ সত্তার শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ। সে যথার্থ তওবা করেছে। যদি কোন জালিম ব্যক্তিও এমন তওবা করতো, অবশ্যই তাকে ক্ষমা করে দেওয়া হতো। অত:পর নবী সা. তার জানাযা পড়তে নির্দেশ দিলেন। তার জানাযা পড়ানো হল।{ মুসলিম শরীফ,হাদীস নং-৪৪০৬,৪৪০৭,৪৪০৮} মুসনাদে ইমাম আহমদ ইবন হাম্বল এর বর্ণনায় এসেছে, তাকে দাফন করা হয়ে ছিল।{ মুসনাদে আহমদ,হাদীস নং-২২৯৯৯}
পরিশেষে বলা যায় যে, উভয় জাহানে সফলতার স্বর্ণ শিকড়ে অধিষ্ঠিত হতে হলে তওবার প্রতি যথার্থ গুরুত্ব দেওয়া ও যত্নবান হওয়া অপরিহার্য।

লেখক: ইয়াছিন আল মাসুম, পিএইচডি গবেষক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।



ইয়াছিন আল মাসুম




ইসলামে শবে কদর ও করনীয় 
-ইয়াছিন আল মাসুম

মুসলিম উম্মাহর সম্মান বৃদ্ধি ও উদ্ভূত যাবতীয় সমস্যার সমাধান কল্পে ৬১০খ্রিস্টাব্দের পবিত্র রমজান মাসের লাইলাতুল কদরে লাওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানে একেবারে পুরো ঐশী মহাগ্রন্থ আল কুরআন নাযিল হয়।
পরবর্তীতে মানবজাতির নানা সমস্যার সমাধানার্থে প্রয়োজনানুসারে অল্প অল্প করে সুদীর্ঘ ২৩ বছরে মানবতার মুক্তির দূত মহানবী (সা.) এর উপর আল কুরআন অবতীর্ণ হয়। 
পৃথিবীর অনেক দেশের নানা ভাষাভাষী মানুষের কাছে ‘শবে কদর’ শব্দদ্বয় অধিক সমাদৃত। শবে কদর শব্দ দু'টি ফারসি ভাষার বহুল প্রচলিত শব্দদ্বয়। শব অর্থ রজনী বা রাত আর কদর অর্থ সম্মান, মর্যাদা, ভাগ্য ইত্যাদি। সুতরাং শবে কদর মানে হলো ভাগ্যরজনী বা মর্যাদাপূর্ণ রাত। আরবীতে একে বলা হয় লাইলাতুল কদর। রমজানের ২০ তারিখের পর যে কোনো বিজোড় তারিখে শবে কদর হতে পারে। তবে অনেক আলেমের অভিমত হলো পবিত্র রমজানের ২৬ তারিখ দিবাগত রাতেই সাধারণত শবে কদর হয়ে থাকে।
মহানবী (সা.) বলেন,‘তোমরা রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রজনীগুলোতে শবে কদরকে অনুসন্ধান করো। (মুসলিম শরীফ)। 
মুহাক্কিক উলামায়ে কেরামের অভিমত হলো: ‘লাইলাতুল কদর’(لیلة القدر) শব্দদ্বয়ে মোট নয়টি হরফ রয়েছে; আর সুরা কদরে ‘লাইলাতুল কদর’ (لیلة القدر) শব্দদ্বয় মোট ৩বার এসেছে; ৯কে ৩দিয়ে গুণ করলে হয় ২৭, যারফলে ২৭শে রমজান অর্থাৎ ২৬ রমজান দিবাগত রাতে শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশী। (তাফসীরে মাযহারী)

শবে কদর হলো মুসলমানদের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ ও মহিমান্বিত রজনী। এমর্যাদাপূর্ণ রাত্রি সম্পর্কে মহানবী (সা.) থেকে বহু হাদীস বর্ণিত হয়েছে এবং এর শ্রেষ্ঠত্ব ও মাহাত্ম্য বর্ণনার্থে আল কুরআনে কদর নামে স্বতন্ত্র একটি সূরাই অবতীর্ণ করেছেন। যাতে এই রজনীকে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মহান আল্লাহ বলেন, আমি একে (কুরআনকে) শবে কদরে (মহিমান্বিত রজনীতে) নাযিল করেছি। আপনি কি জানেন মহিমান্বিত রজনী কী? মহিমান্বিত রজনী হলো এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এরজনীতে প্রতিপালকের নির্দেশক্রমে প্রত্যেকটি কাজের জন্য সকল ফেরেশতা ও জিব্রাইল (আ.) অবতীর্ণ হন। এই নিরাপদ প্রশান্তি ফজর উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। (সূরা কদর:১-৫)
উপরোক্ত আয়াত সমূহে শবে কদরের শ্রেষ্ঠত্ব ও মহিমার বিষয়টি প্রস্ফুটিত হয়েছে। এ রাতের শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম কারণ হলো এ রজনীতেই কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। মহান আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই আমি তা (কোরআনকে) এক বরকতময় রজনীতে অবতীর্ণ করেছি, নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। এ রজনীতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়। (সূরা আদ-দুখান, আয়াত: ৩-৪)
মাহে রমজানেই এই মহিমান্বিত রজনী বিদ্যমান যা হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেয় যাতে কালামে হাকীম নাযিল হয়েছে। শবে কদর যে রমজানেই রয়েছে তার প্রমাণ হলো মহান 
আল্লাহ তাআলার বাণী: ‘রমজান মাস হলো এমন একটি মাস! যাতে মানবজাতির পথপ্রদর্শনের জন্য ও পথপ্রদর্শনের সুস্পষ্ট নিদর্শনরূপে কোরআন নাযিল করা হয়েছে। (আল বাকারা, আয়াত: ১৮৫)।

মহিমান্বিত বরকতময় এই রজনীতে ইবাদতের মাধ্যমে রাত্রি জাগরণ করে পাপরাশি হতে মুক্ত হয়ে পূণ্য অর্জনে ব্রতী হওয়ার অনন্য প্রয়াস রয়েছে।
হাদীস সম্রাট আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, নবী (সা.) বলেন: যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের নিয়তে কদরের রাত জেগে ইবাদত করবে, তার অতীতের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। (বুখারী শরীফ)
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) নবী(সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! (সা.) আমি যদি লাইলাতুল কদর সম্পর্কে জানতে পারি, তাহলে আমি সেই রাত্রিতে আল্লাহর কাছে কী দোয়া করব? রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন; তুমি বলবে, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া; ফাফু আন্নি।’ (‘হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে আপনি ভালোবাসেন; তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন।’ (ইবনে মাজা)

হাজার মাসের ইবাদতের চেয়ে শবে কদরের ইবাদত শ্রেষ্ঠ হওয়ায় এ রজনীকে গণিমত মনে করে যথাযথভাবে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে উদযাপন করা চাই। বেশী বেশী ইবাদত-বন্দেগীতেই রাতটি অতিবাহিত করা দরকার।
মহানবী (সা.) বলেন, মহান আল্লাহ সকল রজনীকে শবে কদর দ্বারাই সৌন্দর্যমণ্ডিত ও মোহনীয় করে দিয়ছেন। যাতে পূণ্যময় ও বরকতময় এই মহিমান্বিত রজনীতে বেশী বেশী তাসবীহ-তাহলীল ও উপাসনায় মগ্ন থাকো। (আল হাদীস)
মহান আল্লাহ ইবাদতের মাধ্যমে এই শবে কদরে নেকী লাভের অপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। এরজনীতে যে সব ইবাদত করা যেতে পারে তা হলো:
★নফল নামাজ:- যেমন: সালাতুত্ তাসবীহ, সালাতুল হাজাত, সালাতুশ শোকর, তাহাজ্জুদ ইত্যাদি। অত্যন্ত মনোযোগ ও খুশু-খুজোর সাথে নফল সালাত আদায় করা। এতে রুকো-সিজদা দীর্ঘ করা, ক্বিরাত লম্বা করা যেতে পারে। 
★কোরআন তিলাওয়াত: যে কোনো সূরা বা অংশ পড়া যেতে পারে। তবে ফজিলতপূর্ণ সূরাও তিলাওয়াত করা যায়।
★দরুদ শরীফ: যে কোনো দরুদ শরীফ পড়া যেতে পারে।
★তওবা: অতি বিনয়ের সাথে কৃতপাপরাশির উপর লজ্জিত হয়ে ভবিষ্যতে না করার দৃঢ়প্রতিজ্ঞা করা।
★ইস্তিগফার: মানুষের স্বভাবজাত ধর্মই হলো পাপে নিমজ্জিত হওয়া। হতে পারে তা ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় বা ভুলে। কেউই পাপের উর্ধ্বে নয়। তাই আল্লাহর কাছে এই রাত্রিতে বেশী বেশী ক্ষমা প্রার্থনা করা।
★যিকির-আযকার: মহান আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা ও স্তুতিমূলক তাসবীহ-তাহলীল ও যিকির-আযকার করা যেতে পারে।
★কবর যিয়ারত : কোনো রকমের বাড়াবাড়ি না করে শরীয়তের নির্দেশিত পন্থায় কবর যিয়ারত করা।
★দোয়া-মোনাজাত : নিজের জন্য, সন্তানাদির জন্য, পিতা-মাতার জন্য, আত্মীয়স্বজনের জন্য, কাছের ও দূরের বন্ধুবান্ধবের জন্য, বিশ্বের সকল মোমিন নর-নারীর জন্য ও প্রিয় মাতৃভূমি ও দেশের মানুষের মঙ্গল ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনায় দোয়া করা।


লেখক: ইয়াছিন আল মাসুম, পিএইচডি গবেষক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ও "বাংলাদেশ ট্রিবিউন" রাবি. প্রতিনিধি।

  • ইসলামে শবে কদর ও তাতে করনীয় 
ও তাতে করনীয় 
-ইয়াছিন আল মাসুম

মুসলিম উম্মাহর সম্মান বৃদ্ধি ও উদ্ভূত যাবতীয় সমস্যার সমাধান কল্পে ৬১০খ্রিস্টাব্দের পবিত্র রমজান মাসের লাইলাতুল কদরে লাওহে মাহফুজ থেকে প্রথম আসমানে একেবারে পুরো ঐশী মহাগ্রন্থ আল কুরআন নাযিল হয়।
পরবর্তীতে মানবজাতির নানা সমস্যার সমাধানার্থে প্রয়োজনানুসারে অল্প অল্প করে সুদীর্ঘ ২৩ বছরে মানবতার মুক্তির দূত মহানবী (সা.) এর উপর আল কুরআন অবতীর্ণ হয়।
পৃথিবীর অনেক দেশের নানা ভাষাভাষী মানুষের কাছে ‘শবে কদর’ শব্দদ্বয় অধিক সমাদৃত। শবে কদর শব্দ দু'টি ফারসি ভাষার বহুল প্রচলিত শব্দদ্বয়। শব অর্থ রজনী বা রাত আর কদর অর্থ সম্মান, মর্যাদা, ভাগ্য ইত্যাদি। সুতরাং শবে কদর মানে হলো ভাগ্যরজনী বা মর্যাদাপূর্ণ রাত। আরবীতে একে বলা হয় লাইলাতুল কদর। রমজানের ২০ তারিখের পর যে কোনো বিজোড় তারিখে শবে কদর হতে পারে। তবে অনেক আলেমের অভিমত হলো পবিত্র রমজানের ২৬ তারিখ দিবাগত রাতেই সাধারণত শবে কদর হয়ে থাকে।
মহানবী (সা.) বলেন,‘তোমরা রমজানের শেষ দশকের বিজোড় রজনীগুলোতে শবে কদরকে অনুসন্ধান করো। (মুসলিম শরীফ)।
মুহাক্কিক উলামায়ে কেরামের অভিমত হলো: ‘লাইলাতুল কদর’(لیلة القدر) শব্দদ্বয়ে মোট নয়টি হরফ রয়েছে; আর সুরা কদরে ‘লাইলাতুল কদর’ (لیلة القدر) শব্দদ্বয় মোট ৩বার এসেছে; ৯কে ৩দিয়ে গুণ করলে হয় ২৭, যারফলে ২৭শে রমজান অর্থাৎ ২৬ রমজান দিবাগত রাতে শবে কদর হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশী। (তাফসীরে মাযহারী)

শবে কদর হলো মুসলমানদের জন্য অতীব গুরুত্বপূর্ণ ও মহিমান্বিত রজনী। এমর্যাদাপূর্ণ রাত্রি সম্পর্কে মহানবী (সা.) থেকে বহু হাদীস বর্ণিত হয়েছে এবং এর শ্রেষ্ঠত্ব ও মাহাত্ম্য বর্ণনার্থে আল কুরআনে কদর নামে স্বতন্ত্র একটি সূরাই অবতীর্ণ করেছেন। যাতে এই রজনীকে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
মহান আল্লাহ বলেন, আমি একে (কুরআনকে) শবে কদরে (মহিমান্বিত রজনীতে) নাযিল করেছি। আপনি কি জানেন মহিমান্বিত রজনী কী? মহিমান্বিত রজনী হলো এক হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেষ্ঠ। এরজনীতে প্রতিপালকের নির্দেশক্রমে প্রত্যেকটি কাজের জন্য সকল ফেরেশতা ও জিব্রাইল (আ.) অবতীর্ণ হন। এই নিরাপদ প্রশান্তি ফজর উদয় পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। (সূরা কদর:১-৫)
উপরোক্ত আয়াত সমূহে শবে কদরের শ্রেষ্ঠত্ব ও মহিমার বিষয়টি প্রস্ফুটিত হয়েছে। এ রাতের শ্রেষ্ঠত্বের অন্যতম কারণ হলো এ রজনীতেই কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে। মহান আল্লাহ তা'আলা ইরশাদ করেন, নিশ্চয়ই আমি তা (কোরআনকে) এক বরকতময় রজনীতে অবতীর্ণ করেছি, নিশ্চয়ই আমি সতর্ককারী। এ রজনীতে প্রত্যেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্থিরীকৃত হয়। (সূরা আদ-দুখান, আয়াত: ৩-৪)
মাহে রমজানেই এই মহিমান্বিত রজনী বিদ্যমান যা হাজার মাস অপেক্ষা শ্রেয় যাতে কালামে হাকীম নাযিল হয়েছে। শবে কদর যে রমজানেই রয়েছে তার প্রমাণ হলো মহান
আল্লাহ তাআলার বাণী: ‘রমজান মাস হলো এমন একটি মাস! যাতে মানবজাতির পথপ্রদর্শনের জন্য ও পথপ্রদর্শনের সুস্পষ্ট নিদর্শনরূপে কোরআন নাযিল করা হয়েছে। (আল বাকারা, আয়াত: ১৮৫)।

মহিমান্বিত বরকতময় এই রজনীতে ইবাদতের মাধ্যমে রাত্রি জাগরণ করে পাপরাশি হতে মুক্ত হয়ে পূণ্য অর্জনে ব্রতী হওয়ার অনন্য প্রয়াস রয়েছে।
হাদীস সম্রাট আবু হুরায়রা (রা.) বর্ণনা করেন, নবী (সা.) বলেন: যে ব্যক্তি ইমানের সঙ্গে সওয়াবের নিয়তে কদরের রাত জেগে ইবাদত করবে, তার অতীতের গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হবে। (বুখারী শরীফ)
উম্মুল মুমিনীন আয়েশা সিদ্দীকা (রা.) নবী(সা.)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, হে আল্লাহর রাসুল! (সা.) আমি যদি লাইলাতুল কদর সম্পর্কে জানতে পারি, তাহলে আমি সেই রাত্রিতে আল্লাহর কাছে কী দোয়া করব? রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন; তুমি বলবে, ‘আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুউন, তুহিব্বুল আফওয়া; ফাফু আন্নি।’ (‘হে আল্লাহ! আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে আপনি ভালোবাসেন; তাই আমাকে ক্ষমা করে দিন।’ (ইবনে মাজা)

হাজার মাসের ইবাদতের চেয়ে শবে কদরের ইবাদত শ্রেষ্ঠ হওয়ায় এ রজনীকে গণিমত মনে করে যথাযথভাবে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সাথে উদযাপন করা চাই। বেশী বেশী ইবাদত-বন্দেগীতেই রাতটি অতিবাহিত করা দরকার।
মহানবী (সা.) বলেন, মহান আল্লাহ সকল রজনীকে শবে কদর দ্বারাই সৌন্দর্যমণ্ডিত ও মোহনীয় করে দিয়ছেন। যাতে পূণ্যময় ও বরকতময় এই মহিমান্বিত রজনীতে বেশী বেশী তাসবীহ-তাহলীল ও উপাসনায় মগ্ন থাকো। (আল হাদীস)
মহান আল্লাহ ইবাদতের মাধ্যমে এই শবে কদরে নেকী লাভের অপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি করে দিয়েছেন। এরজনীতে যে সব ইবাদত করা যেতে পারে তা হলো:
★নফল নামাজ:- যেমন: সালাতুত্ তাসবীহ, সালাতুল হাজাত, সালাতুশ শোকর, তাহাজ্জুদ ইত্যাদি। অত্যন্ত মনোযোগ ও খুশু-খুজোর সাথে নফল সালাত আদায় করা। এতে রুকো-সিজদা দীর্ঘ করা, ক্বিরাত লম্বা করা যেতে পারে।
★কোরআন তিলাওয়াত: যে কোনো সূরা বা অংশ পড়া যেতে পারে। তবে ফজিলতপূর্ণ সূরাও তিলাওয়াত করা যায়।
★দরুদ শরীফ: যে কোনো দরুদ শরীফ পড়া যেতে পারে।
★তওবা: অতি বিনয়ের সাথে কৃতপাপরাশির উপর লজ্জিত হয়ে ভবিষ্যতে না করার দৃঢ়প্রতিজ্ঞা করা।
★ইস্তিগফার: মানুষের স্বভাবজাত ধর্মই হলো পাপে নিমজ্জিত হওয়া। হতে পারে তা ইচ্ছায়-অনিচ্ছায় বা ভুলে। কেউই পাপের উর্ধ্বে নয়। তাই আল্লাহর কাছে এই রাত্রিতে বেশী বেশী ক্ষমা প্রার্থনা করা।
★যিকির-আযকার: মহান আল্লাহ তা'আলার প্রশংসা ও স্তুতিমূলক তাসবীহ-তাহলীল ও যিকির-আযকার করা যেতে পারে।
★কবর যিয়ারত : কোনো রকমের বাড়াবাড়ি না করে শরীয়তের নির্দেশিত পন্থায় কবর যিয়ারত করা।
★দোয়া-মোনাজাত : নিজের জন্য, সন্তানাদির জন্য, পিতা-মাতার জন্য, আত্মীয়স্বজনের জন্য, কাছের ও দূরের বন্ধুবান্ধবের জন্য, বিশ্বের সকল মোমিন নর-নারীর জন্য ও প্রিয় মাতৃভূমি ও দেশের মানুষের মঙ্গল ও উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি কামনায় দোয়া করা।


  • লেখক: ইয়াছিন আল মাসুম, পিএইচডি গবেষক, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়।

Monday, November 23, 2015



ইসলামে পর্দার বিধান
- ইয়াছিন আল মাসুম
ইসলাম শান্তির র্ধম সব ক্ষেত্রেই এর সুস্পষ্ট পথ নির্দেশনা রয়েছে নামাজ,রোজার মত পর্দা একটি অপরির্হায বিধান পর্দা লংঘনের কারনে আজ সমাজে ,দেশে  এক কথায় সর্বত্র নারীরা  লাঞ্ছিত,ইভটিজিং ধর্ষনের  মত গর্হিত কাজের  শিকার খবরের কাগজ  গুলো  খুললেই  লজ্জায়  মাথা অবনমিত  হয়ে যায়যখন দেখা যায়  এখানে সেখানে নারী  কন্যা শিশু  ধর্ষনের শিকার আবার কখনো দেখা যায় এসিড মেরে  চেহারা ঝলসানোর খবর বর্তমানে সমাজের কিছু  সংখ্যক লোক পর্দাকে হুজুর  তার পরিবারের  লোকদের জন্যই কেবল ফরজ মনে করেন তাই হুজুরদের কেউ পর্দার সামান্য খেলাফ করলে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায় আর অনেক নারী এমন আছেন যারা হুজুর টাইপের লোকদের কাছে এলে পর্দা করেন আর অন্যত্র ওপেনলি চলাফেরা করেন
অনেকে আবার  পর্দাকে ফ্যাশন বা ফায়দা  অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে গ্রহন করেছেন আমি মনে করি বর্তমানে কিছু সংখ্যক পরিবার ছাড়া বাকী সবাই  পর্দার প্রতি উদাসীন যাই হোক পর্দার আরবী প্রতিশব্দ হচ্ছে হিজাব ,বাংলায় যার সমার্থক আসে আবরণ ইসালামী বিধি মোতাবেক যে আবরণের আবশ্যিক বিধান মেনে চলতে হয় উহাই পর্দা অথবা এভাবে  বলা যেতে পারে যে, লোক সমক্ষে শালীন  বস্ত্রে আবৃত হয়ে নিজেকে অবগুন্ঠার ভিতরে  রাখাই পর্দা বা হিজাব এটি সাধারণত নারীদের পরিধেয় বস্ত্র ইসলাম আগমনের পূর্বে  আরব ,গ্রীক,রোমান, পারসিক সম্ব্রান্ত নারীরা লোক সমক্ষে যাওয়ার সময় হিজাব হিসেবে অতিরিক্ত ব্স্ত্র দিয়ে মাথা মুখ মন্ডল ঢেকে রাখতো এটি ছিল সামাজিক প্রথা, ধর্মীয় বিধান নয়তবে ইসলাম পর্দাকে ৩য় হিজরী  মতান্তরে ৫ম হিজরীতে ধর্মীয়  বিধান হিসেবে প্রবর্তিত করে




পর্দা ফরজ হওয়ার শানে নুয়ূল সম্পকে  সহীহ বুখারীতে আছে যথাঃ-
একঃ  হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, হযরত ওমর (রাঃ) একবার মহানবী (সাঃ) এর কাছে  আরজ করলেন হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) আপনার কাছে সৎ-অসৎ  বিভিন্ন ধরনের  লোক আসা- যাওয়া করে আপনি  স্ত্রীগণ কে  পর্দা করার  আদেশ দিলে ভাল হত এর পরিপ্রেক্ষিতে পর্দার আয়াত নাজিল হয়
দুইঃ    হযরত আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত যে, তিনি  বলেন,পর্দার আয়াত সর্ম্পকে আমি সর্বাধিক  অবগত কারন আমি ছিলাম  এই ঘটনার  প্রত্যক্ষদর্শী হযরত জয়নব বিনতে জাহাশ (রাঃএর বিয়ের পর  যখন  বধুবেশে মহানবী (সাঃ) এর গৃহে আসেন তখন নবী (সাঃ) গৃহে উপস্থিত ছিলেন নবী (সাঃ) ওলীমার জন্য কিছু খাবার প্রস্তুত করে সাহাবাদের কে দাওয়াত করেন খাওয়ার পর কিছু সংখ্যক সাহাবা  কথার্বাতায় লিপ্ত হয়ে পরেনলোকজনের  এভাবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার কারণে নবী (সাঃ) কষ্ট অনুভব করছিলেনতিনি ঘর থেকে বের হয়ে  অন্য স্ত্রীদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ  সালামের জন্য  চলে গেলেন  ফিরে এসে দেখলেন  যে, লোকজন তেমনি বসে রয়েছে তাঁকে ফিরে আসতে দেখে তাদের সম্বিৎ ফিরে এল  এবং স্থান ত্যাগ করল  নবী (সাঃ) ঘরে প্রবেশ করে কিছুক্ষণ পরেই বের হয়ে এলেন আমি সেখানেই উপস্থিত ছিলাম তিনি পর্দার  আয়াত  (সূরা নূরের ২৭ নং আয়াত) পড়ে শোনালেন যা তখনই অবর্তীণ হয়েছিল প্রায়গিক ক্ষেত্রে বিশেষ পরিধেয় বস্ত্র ছাড়াও দৃষ্টিকে অবনমিত রাখা পর্দাভূক্ত আর বিধান নারীপূরুষ  উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য
 মহান আল্লাহ বলেনঃ  হে নবীমুমিন পূরুষদেরকে বলুন,তারা যেন তাদের  দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হিফাজত করেএতে তাদের জন্য পবিত্রতা রয়েছে নিশ্চয়ই  তারা যা করে   আল্লাহ তা অবগত আছেন মুমিনাহ নারীদেরকে বলুন, তারা যেন  তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হিফাজত করে (সূরা নূর আয়াত ৩০-৩১) পর্দা নারীপূরুষ উভয়ের জন্য হলেও নারীর জন্য  সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হল  পর্দায় আবৃত থাকা আর  জন্য ইসলাম পর পূরুষের সামনে  নারীর সৌর্ন্দয  প্রদর্শণী বিরোধীতা করেছে





মহান আল্লাহ বলেনঃ  তারা যেন বক্ষের উপর চাদর টেনে দেয় এবং তাদের  সৌর্ন্দয প্রকাশ না করে(সূরা নূর আয়াত ৩১)
পর্দায় আবৃত হয়েও কোন পর পুরুষের  সাথে নির্জনে  অবস্থান করা বৈধ নয় প্রসঙ্গে নবী (সাঃ)  বলেনঃ তোমরা মহিলাদর কাছে একাকী যাওয়া  হতে  বিরত থাক (বুখারী শরীফ অনুবাদ ৫ম খন্ড পৃঃ-১০১) নারীর পোষাকের ক্ষেত্রে এমন হতে পারবেনা যে পোষাক পরিধান করার  পর দেহের  গঠন বা বিশেষ কিছু স্থান অনুমেয় হয় পরিধেয় বস্ত্রের উপর  বড়  ধরনের চাদর  বা ঢিলে- ঢালা  বোরকা পরা যেতে পারে তবে বর্তমানে  নারীদেরকে যে রকমের পাতলা বস্ত্র টাইটফিটিং এর বোরকা পরতে দেখা যায় তা যৌনচারকেই  ঊস্কে দেয়
মহান আল্লাহ বলেনঃ হে নবী! আপনার  স্ত্রীগণ,কন্যাগণ মুমিনাহ  নারীদেরকে বলে দিন ,তারা যেন তাদের দেহ মুখ মন্ডল  চাদর দ্বারা আবৃত রাখে এতে তাদের পরিচয় পাওয়া যাবে  এবং তারা উত্যক্ত  হবেনা (সূরা আহযাব আয়াতঃ ৫৯)
সংসার জীবনে,সমাজে কর্মক্ষেত্রে  নানা প্রয়োজনে  নারী-পুরুষের সাক্ষাৎ যোগাযোগ অনাকাংখ্তি নয় তবে এতে ইসলামের সুস্পষ্ট  নির্দেশ রয়েছে
মহান আল্লাহ  বলেনঃ  হে নবীর স্ত্রীগণ তোমরা অন্য নারীর মত নও ,যদি তোমরা আল্লাহকে ভয়  কর ,তবে পর পুরুষের  সাথে কোমল আকর্ষনীয় ভঙ্গিতে কথা বলো না যাতে  করে ব্যধিগ্রস্থ  হৃদয়ের  অধিকারী  ব্যক্তি কু-বাসনা  করে বসে তোমরা সঙ্গত কথার্বাতা বলবে (সূরা আহযাব আযাতঃ ৩২)   আয়াতের তাফসীরে মুফাস্সিরগণ  বলেছেন  কথা বলার সময়  মুখে হাত রেখে কথা বলতে হবে যাতে নারীর সুমিষ্ট  কন্ঠস্বরে ভাটাপরে  যায় তবে কর্কশ  স্বরেও  কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে তাই ক্ষেত্রে মধ্যম পন্থা  অবলম্বন করা আবশ্যকবর্তমানে  নারী সমাজ বস্ত্রের পর্দার  উপর কিছু গুরুত্ব দিলেও বহু নারী কন্ঠস্বরের পর্দার ক্ষেত্রে চরম অবহেলা প্রর্দশণ করে থাকেন এর অন্যতম উদাহরণ হল মোবাইল ফোন
পরিশেষে বলা যায় যে, ইসলাম নির্দেশিত পর্দার বিধান মেনে চললে আত্নিক পবিত্রতা অর্জিত হবে  মহান আল্লাহ বলেনঃ আল্লাহ চান তোমাদের অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে র্পূণ পূত-পবিত্র রাখতে (পদার বিধাণের মাধ্যমে) (সূরা আহযাব  আযাতঃ৩৩)  
এছাড়াও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হবে ,ইভটিজিং ধর্ষনের মত গর্হিত কাজ বন্ধ হবেসমাজে সুন্দর সুস্থ  পরিবেশ সৃষ্টি হবে