ইসলামে পর্দার বিধান
- ইয়াছিন আল মাসুম
ইসলাম শান্তির র্ধম। সব ক্ষেত্রেই এর সুস্পষ্ট পথ নির্দেশনা রয়েছে । নামাজ,রোজার মত পর্দা ও একটি অপরির্হায বিধান। পর্দা লংঘনের কারনে আজ সমাজে ,দেশে এক কথায় সর্বত্র নারীরা লাঞ্ছিত,ইভটিজিং ও ধর্ষনের মত গর্হিত কাজের শিকার । খবরের কাগজ গুলো খুললেই লজ্জায় মাথা অবনমিত হয়ে যায়।যখন দেখা যায় এখানে সেখানে নারী ও কন্যা শিশু ধর্ষনের শিকার ।আবার কখনো দেখা যায় এসিড মেরে চেহারা ঝলসানোর খবর । বর্তমানে সমাজের কিছু সংখ্যক লোক পর্দাকে হুজুর ও তার পরিবারের লোকদের জন্যই কেবল ফরজ মনে করেন। তাই হুজুরদের কেউ পর্দার সামান্য খেলাফ করলে সমালোচনার ঝড় বয়ে যায় ।আর অনেক নারী এমন আছেন যারা হুজুর টাইপের লোকদের কাছে এলে পর্দা করেন। আর অন্যত্র ওপেনলি চলাফেরা করেন।
অনেকে আবার পর্দাকে ফ্যাশন বা ফায়দা অর্জনের হাতিয়ার হিসেবে গ্রহন করেছেন। আমি মনে করি বর্তমানে কিছু সংখ্যক পরিবার ছাড়া বাকী সবাই পর্দার প্রতি উদাসীন । যাই হোক পর্দার আরবী প্রতিশব্দ হচ্ছে হিজাব ,বাংলায় যার সমার্থক আসে আবরণ । ইসালামী বিধি মোতাবেক যে আবরণের আবশ্যিক বিধান মেনে চলতে হয় উহাই পর্দা ।অথবা এভাবে বলা যেতে পারে যে,
লোক সমক্ষে শালীন বস্ত্রে আবৃত হয়ে নিজেকে অবগুন্ঠার ভিতরে রাখাই পর্দা বা হিজাব । এটি সাধারণত নারীদের পরিধেয় বস্ত্র ।ইসলাম আগমনের পূর্বে ও আরব
,গ্রীক,রোমান,ও পারসিক সম্ব্রান্ত নারীরা লোক সমক্ষে যাওয়ার সময় হিজাব হিসেবে অতিরিক্ত ব্স্ত্র দিয়ে মাথা ও মুখ মন্ডল ঢেকে রাখতো। এটি ছিল সামাজিক প্রথা, ধর্মীয় বিধান নয়।তবে ইসলাম পর্দাকে ৩য় হিজরী মতান্তরে ৫ম হিজরীতে ধর্মীয় বিধান হিসেবে প্রবর্তিত করে ।
পর্দা ফরজ হওয়ার শানে নুয়ূল সম্পকে সহীহ বুখারীতে আছে। যথাঃ-
একঃ হযরত আনাস
(রাঃ) হতে বর্ণিত যে, হযরত ওমর (রাঃ)
একবার মহানবী (সাঃ)
এর কাছে
আরজ করলেন ।হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ) আপনার কাছে সৎ-অসৎ বিভিন্ন ধরনের লোক আসা-
যাওয়া করে। আপনি
স্ত্রীগণ কে পর্দা করার আদেশ দিলে ভাল হত। এর পরিপ্রেক্ষিতে পর্দার আয়াত নাজিল হয়।
দুইঃ হযরত আনাস (রাঃ)
হতে বর্ণিত যে,
তিনি বলেন,পর্দার আয়াত সর্ম্পকে আমি সর্বাধিক অবগত । কারন আমি ছিলাম এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী। হযরত জয়নব বিনতে জাহাশ (রাঃ) এর বিয়ের পর যখন বধুবেশে মহানবী (সাঃ) এর গৃহে আসেন ।তখন নবী (সাঃ)
ও গৃহে উপস্থিত ছিলেন। নবী (সাঃ)
ওলীমার জন্য কিছু খাবার প্রস্তুত করে সাহাবাদের কে দাওয়াত করেন। খাওয়ার পর কিছু সংখ্যক সাহাবা কথার্বাতায় লিপ্ত হয়ে পরেন।লোকজনের এভাবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকার কারণে নবী (সাঃ) কষ্ট অনুভব করছিলেন।তিনি ঘর থেকে বের হয়ে অন্য স্ত্রীদের সাথে দেখা সাক্ষাৎ ও সালামের জন্য চলে গেলেন।
ফিরে এসে দেখলেন যে, লোকজন তেমনি বসে রয়েছে । তাঁকে ফিরে আসতে দেখে তাদের সম্বিৎ ফিরে এল এবং স্থান ত্যাগ করল।
নবী (সাঃ) ঘরে প্রবেশ করে কিছুক্ষণ পরেই বের হয়ে এলেন । আমি সেখানেই উপস্থিত ছিলাম । তিনি পর্দার আয়াত (সূরা নূরের ২৭ নং আয়াত) পড়ে শোনালেন । যা তখনই অবর্তীণ হয়েছিল ।প্রায়গিক ক্ষেত্রে বিশেষ পরিধেয় বস্ত্র ছাড়াও দৃষ্টিকে অবনমিত রাখা পর্দাভূক্ত । আর এ বিধান নারী
–পূরুষ উভয়ের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য ।
মহান আল্লাহ বলেনঃ হে নবী
! মুমিন পূরুষদেরকে বলুন,তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গের হিফাজত করে।এতে তাদের জন্য পবিত্রতা রয়েছে । নিশ্চয়ই
তারা যা করে আল্লাহ তা অবগত আছেন ।মুমিনাহ নারীদেরকে বলুন,
তারা যেন তাদের দৃষ্টি অবনত রাখে এবং লজ্জাস্থানের হিফাজত করে। (সূরা নূর আয়াত ৩০-৩১)
পর্দা নারী –পূরুষ উভয়ের জন্য হলেও নারীর জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন হল পর্দায় আবৃত থাকা ।আর এ জন্য ইসলাম পর পূরুষের সামনে নারীর সৌর্ন্দয প্রদর্শণী র বিরোধীতা করেছে।
মহান আল্লাহ বলেনঃ তারা যেন বক্ষের উপর চাদর টেনে দেয় এবং তাদের সৌর্ন্দয প্রকাশ না করে।(সূরা নূর আয়াত ৩১)
পর্দায় আবৃত হয়েও কোন পর পুরুষের
সাথে নির্জনে অবস্থান করা বৈধ নয়।এ প্রসঙ্গে নবী (সাঃ) বলেনঃ তোমরা মহিলাদর কাছে একাকী যাওয়া হতে বিরত থাক। (বুখারী শরীফ অনুবাদ ৫ম খন্ড পৃঃ-১০১)
নারীর পোষাকের ক্ষেত্রে এমন হতে পারবেনা যে পোষাক পরিধান করার পর দেহের গঠন বা বিশেষ কিছু স্থান অনুমেয় হয়। পরিধেয় বস্ত্রের উপর বড় ধরনের চাদর বা ঢিলে-
ঢালা বোরকা পরা যেতে পারে ।তবে বর্তমানে নারীদেরকে যে রকমের পাতলা বস্ত্র ও টাইটফিটিং এর বোরকা পরতে দেখা যায় । তা যৌনচারকেই ঊস্কে দেয়।
মহান আল্লাহ বলেনঃ হে নবী!
আপনার স্ত্রীগণ,কন্যাগণ ও মুমিনাহ নারীদেরকে বলে দিন ,তারা যেন তাদের দেহ ও মুখ মন্ডল চাদর দ্বারা আবৃত রাখে । এতে তাদের পরিচয় পাওয়া যাবে এবং তারা উত্যক্ত হবেনা (সূরা আহযাব আয়াতঃ ৫৯)
সংসার জীবনে,সমাজে ও কর্মক্ষেত্রে নানা প্রয়োজনে নারী-পুরুষের সাক্ষাৎ ও যোগাযোগ অনাকাংখ্তি নয়। তবে এতে ইসলামের সুস্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে ।
মহান আল্লাহ বলেনঃ হে নবীর স্ত্রীগণ তোমরা অন্য নারীর মত নও
,যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর ,তবে পর পুরুষের সাথে কোমল ও আকর্ষনীয় ভঙ্গিতে কথা বলো না। যাতে করে ব্যধিগ্রস্থ হৃদয়ের অধিকারী ব্যক্তি কু-বাসনা করে বসে ।তোমরা সঙ্গত কথার্বাতা বলবে ।(সূরা আহযাব আযাতঃ ৩২) এ আয়াতের তাফসীরে মুফাস্সিরগণ বলেছেন কথা বলার সময় মুখে হাত রেখে কথা বলতে হবে । যাতে নারীর সুমিষ্ট কন্ঠস্বরে ভাটাপরে যায় । তবে কর্কশ স্বরেও কথা বলতে নিষেধ করা হয়েছে । তাই এ ক্ষেত্রে মধ্যম পন্থা অবলম্বন করা আবশ্যক।বর্তমানে নারী সমাজ বস্ত্রের পর্দার উপর কিছু গুরুত্ব দিলেও বহু নারী কন্ঠস্বরের পর্দার ক্ষেত্রে চরম অবহেলা প্রর্দশণ করে থাকেন ।এর অন্যতম উদাহরণ হল মোবাইল ফোন।
পরিশেষে বলা যায় যে, ইসলাম নির্দেশিত পর্দার বিধান মেনে চললে আত্নিক পবিত্রতা অর্জিত হবে। মহান আল্লাহ বলেনঃ আল্লাহ চান তোমাদের অপবিত্রতা দূর করতে এবং তোমাদেরকে র্পূণ পূত-পবিত্র রাখতে (পদার বিধাণের মাধ্যমে) (সূরা আহযাব আযাতঃ৩৩)
এছাড়াও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জিত হবে ,ইভটিজিং ও ধর্ষনের মত গর্হিত কাজ বন্ধ হবে।সমাজে সুন্দর ও সুস্থ
পরিবেশ সৃষ্টি হবে ।